Friday, February 26, 2016

অ্যাম্পিয়ার


অ্যাম্পিয়ার

ফিলামেন্টে হাত দিয়ে বুঝি অনেকদিন সহবাস হয়নি
এই দেহে রক্তের প্রবাহ
প্রতিবাদের ভাষার মত ঋনাত্মক

ইস্ত্রী থেকে জামা তুলে নিলে
ঝটকায় ঝুলে থাকে পেন্ডুলাম
এর থেকে চিরুনী চেয়ে নেওয়া অনেক বিকল্প দেয়
কেয়োকার্পিন হীনতায়
লিপিস্টিকে কাগজের টুকরা লেগে থাকে

আগুন জ্বালা থাকে না কোথাও
অপেক্ষা করতে থাকা গ্রিলে
তান্দুরী থেকে মাইক্রোওইয়েভ আলাদা হয়ে যায়

তাই
একবার টাচ দিয়ে দেখো,
কোমল-কাকড়ির ল্যাবড়া
রান্নার প্রতিটা রেসিপিতে অ্যাম্পিয়ার রয়ে গেছে
এর পর ওই নোংরা মেয়েটা কি ইশারা করে
দেহের মধ্যে বিদ্যুত ?

ফ্রিজে রাখা ব্যঞ্জনের জন্য বাড়ি ফিরতে হয়

পেন ড্রাইভ

পেন-ড্রাইভ

যা কিছু গন্তব্য,
যা কিছু কলম থেকে নির্গত স্রোত
লেখকের যোগ্যতায় যাকে রাস্তা বলে জানো
কন্ঠস্বর থেকে এই যাত্রা,
                  মাত্রা ছাড়া নীচু
                       কিছুটা হ্রস্ব

মায় বাপ,
আমার কোন গন্তব্য নেই
কোন দাদা   বা  কোন কন্ঠস্বর
বজ্র
আমার আছে শুধু একখানি বীজ
এক রুট আর
               এক গণিতের কাব্য
বুকের উপর থেকে এক শূন্য নিয়ে
পরিমাপে না আটা যে কোন আকার
অবস্থান আর উহ্যদের মাঝে এক দৃশ্য
অন্ধকার সুড়ংগ আর গিরিপথ থেকে সরে
যে ধাতব পথ পড়ে থাকে
    আর কবিতা হতে যেসব হিম ছেড়ে যায়

দুধশীতল এই অববাহিকায়
এক চিলতে আবরনে ঢাকা
ঘাও কে গম্ভীর করে তোলে
ছোটা প্যাকেট       বড়া ধামাকা ।

সিডান

মিনি

মিনি যা একটা মেয়ের নাম,
যার কোন সোর্সকোড নেই,
মানে কোন রচয়িতা,
এ কোন কিবোর্ড থেকে উঠে আসা কোন প্রোগ্রাম নয়,
যেখানে আঙ্গুলগুলো কিলবিল করতে থাকে আর ঘেন্না ধরে যায়
এই প্রতিদিন সেক্স আর ডলারের তাড়না
আর নীচে শুয়ে রি রি করতে থাকা কম্পাইলার
যার কোন ক্র্যাক নেই
কিংবা কোন পাসওয়ার্ড
বরং ঘড়ি পরে না এমন একটি মেয়ে
যার কোমরের খাঁজে একটু মেদ আছে
যেখান থেকে ভরে নেওয়া যায় এক গ্লাস ভোদকা

মিনি একটু সস্তা,
যেকেউ একে ধরে নিয়ে গিয়ে মানে ইয়ে
মানে বেডশীটে ছিঁড়ে ফেলতে পারে
আর রাতের পর রাত জাগিয়ে
প্রতিটা পিক্সেলে তার টস টসে রস ভরে দিতে পারে ।

কল সেন্টার -অনুকবিতা

অলক দা - কথামত কবিতা পাঠালাম ।



আমার বায়োডাটাঃ

নামঃ পীযূষকান্তি বিশ্বাস
পিতাঃ জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্বাস
মাতাঃ করুণাময়ী বিশ্বাস
জন্মঃ নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ
পেশাঃ সফটওয়ার ইঞ্জিনীয়ার
বর্তমান ঠিকানাঃ  এইচ ৩ / ৮১, মহাবীর এনক্লেভ, নিউ দিল্লি -৪৫
ফোনঃ +৯১ ৯৮৭১৬০৩৯৩০
ইমেলঃ softestpk@gmail.com
প্রকাশিত বইঃ ঘুমঘর (২০১৪)আকাশচুম্বন (২০১৬)
লেখালেখি দশকঃ প্রথম দশক

কল সেন্টার - অনুকবিতা

-পীযূষকান্তি বিশ্বাস


কল সেন্টার

আকাশচুম্বী থেকে পেড়ে নেওয়া
দু একটি মাওয়া
ঘড়িগুলো পাগলা হয়ে গেছে
ঘোড়াগুলো দৌড়ে যাচ্ছে দেওয়ালে দেওয়ালে

জানলা থেকে খসে যাচ্ছে দৃশ্য,
আর পিছলে যাওয়া টাওয়ারে লিফটের দড়ি

ওদিকে দৃশ্য নেই,
দৃশ্যত যা কিছু শব্দকল্পদ্রুম
সানফ্রান্সিসকো থেকে নিউইউর্ক
হাইটেক ফ্লোরে নজর কেড়ে নিয়েছে
দীপান্বিতার হাইহিল


ঢেউ

টোয়েন্টি ফোর বাই সেভেন
দিন আছে - দিন নেই
রাত আছে - রাত নেই
এ খেলা এখনো রপ্ত করে পারিনি
যে খানে আমদানী আট্টানা আর খরচা রুপাইয়া
হেলোওওও - ক্যন ইউ লিসেন মি
রিসিভার থেকে শ্রবনযোগ্যতা সরিয়ে নিলে
দীপান্বিতার  মিস্টি মুখের লিপিস্টিকে
বঙ্গোপসাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে ।


বিজলি

দীপান্বিতা র ঠোটে লাল
এই এক্ষনি একটা প্রজাপতি অস্টিন টেক্সাস থেকে
উড়ে এসে বসল
টেবিলের উপর বিদ্যুৎ কোম্পানির রসিদে
ক্রমশ উর্ধমুখী গ্রাফ

দীপান্বিতা  হাসে, ওর হাসিতে বিজলি খেলে যায়



চকোলেট

চকলেট কামড়াতে গিয়ে মনে হলো বাইরে
পয়তাল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
আউটার লেয়ারে মাখন গলে যাচ্ছে
আর ডিপ ক্যাফাইনে এখনো ফ্রিজের ঠান্ডা

কামড়াবো কি কামড়াবো না ?

চেয়ার ছেড়ে দীপান্বিতা উঠে দাঁড়ায়,
বন্ধ দুচোখ
চকোলেটে বসে যায় বত্রিশ পাটি দাঁত


বয়ফ্রেন্ড

বাইকটা আস্তে চালাও
বার বার বলতে চেয়েছে দীপান্বিতা

অফিস ফিরতি পথে বাড়ির চিন্তা
অথচ কানে বাজতে থাকে কাস্টোমারের আওয়াজ

"ম্যাডাম, কি বেহিসাবী কাজ করলেন
এত টাকার বিল এলো কিভাবে " ?

হিসাব, টাকার হিসাব

দুহাতে কসকে জাপটে ধরে বয়ফ্রেন্ডকে
বাইকের শাঁই শাঁই আওয়াজ যেন
হিসাব উড়িয়ে নিয়ে যায় ।


রিং রোড

একটা কিছু বলতেই হবে - দীপান্বিতা
প্রেসার, প্রেসার । বয়স বেড়ে যাচ্ছে

বারবার ভেঙ্গে সেজে উঠেছে এই দিল্লি
বারবার এই সড়ক

বাদ থেকে আবাদ
জন থেকে জনপথ,
অনেক দেখা হলো জীবনসাথী ডট কম

ঘরে ফেরার পথে
রিং রোডের সঙ্গে দেখা হয় তার


খিদে

এত রাতেও জিগজ্যাগ ট্যাক্সি ড্রাইভার
শহরের খাদ্য সংকটে
ভীষন ভাবে জ্যাম বাড়ছে

এক্সিলেটরে লক্ষ্য রাখে দীপান্বিতা
এত রাতেও নাইট শিফট

রিভার্স মিররে হর্ণ নেই
ক্ষুধার্ত চোখের চাই যে কোন বিউটি

ডিউটি জয়েন করতে
দেরী হয়ে যাচ্ছে দীপান্বিতার

মেঘ

আজ রাতে মেঘ নেই,
মেঘের ওপারে কোন মেঘ নেই

আজ কি রাত নিশ্চুপ প্রেমহীন কালো
এন্টিভাইরাস আপডেট, স্টাটাস মিটিং
অন-শোর কল

এই ক্লায়েন্ট প্রতিরাতে এই সময় ফোন করে
তার ম্যাসিনে কোন গোলযোগ নেই

ক্লায়েন্ট মানে ঈশ্বর

তাকে মেঘের উপরে রাখে দীপান্বিতা 

অন্নদা

অন্নদা

চুল চেরা হিসাবে
মাতা জুড়ে বাঁচানো যায় না মাকে
দুধটুকু যা বাঁচিয়ে দেয়
ফাটলে আটকে পড়ে সেই রাখাল;

হে বাঘ
তুমি বরং এসে খেয়ে যাও ধান
লুটতরাজ করো বর্গীর মত
অস্তিত্বের সংগ্রামে রাঙাও উপাসনার দেওয়াল
নইলে এই বাঞ্জর জমিতে রক্তের উৎপাদন ?

মা ভয়হীন, শূন্যতাহীন
সন্তানেরা ভাত থেকে ঘাস আলাদা করতে শিখেছে
ঘাস থেকে ফুল

অন্নদাকে বীজের পাশে রেখে
মাঠ কে মাঠ পড়ে আছে আবাদ

মাঠ থেকে আর মা আলাদা হয় না  

রোটি-ব্লাউজ-মকান

রোটি-ব্লাউজ-মকান

সুরক্ষা বলয় থেকে তার কেটে নিলে
অস্তিত্বের গণিত সংকটে পড়ে
প্লাগে যে অ্যাডাপ্টারগুলি রাজনৈতিক ভাবে আগুনসম্ভবা
বানভাসী আমার পরাণ
আতংকে ফ্যাকাশে তোমার দুধ

অথচ দেখছো দিনে দিনে শীত ও গরম নিয়ে
কিভাবে ম্যাচিওর হচ্ছে ব্লাউজের কাট
কি ভাবে উস্কে আনছে স্বাধীনতার সংগ্রাম
যদিও
ব্রা ছেড়ে কিছুতেই বেরোতে পারছে না ক্লিভেজ

স্বাধীনতা দিবস
আজাদী আমারও রক্তে এক খুন
রুটির কথা ভুলে যায় কাপড়া
পায়ে পায়ে মুছে যায় ধানজমি
ইটে ইটে আকাশে উঠে যায় বহুতল ফ্লাট
তিরঙ্গার লেহের এক ঝলমলে উড়ান
রং-বেরঙ

রাস্তায় পড়ে থাকে জেব্রা ক্রসিং
নিস্তাপ ব্ল্যাক আন্ড হোয়াইট



Tuesday, February 23, 2016

আল ভার্সন-২

আল

দোআঁশ চাদর পেতে গমের জমিরা শুয়ে
রান্নায় উস্তাদ হয়ে ওঠা রোদ
পাছে পিঁপড়েরা খেয়ে যায় ধান
বুকের থেকে চুরি হয়ে যায় দুধ
পাছে পাইক ঘিরে নেয় প্রতিবর্গ ইঞ্চ ক্ষেত
মাঠ বিভক্ত হয়ে আছে ।

এই আমাদের আল
আমার বাবার হাতের এই কাটা নালি ,
তোমার বাবার হাতের তোলা এই মাটি
বৈধতার সমস্ত প্রশ্ন পায়ে পায়ে থেঁতলে
আজকের হাটা এই পথ

অতঃপর
আউসের উস্কানি আসে,
শুড়শুড়িয়ে লাঙল পালটিয়ে নেয় কাঁধ
গভীর নলকুপের থেকে এক আঁজলা পিয়াসী জল সেচ
জমিকে দেশদ্রোহী করে তোলে
ঝুরঝুরে কালচে এটেল বুকে নিয়ে
আল ভেঙ্গে পড়ে

কেন ভেঙ্গে যায় মাটি ?
নাকি আলের ভাঙ্গনই একমাত্র খাঁটি ?

এটুকুই জানি
সেচের জলের কিছুটা গড়িয়ে যাবে আরও দক্ষিনে
দক্ষিন পার করে চলে যাবে সেদিকে
জাতীয় সড়ক


Wednesday, February 10, 2016

পথ

গাধা

একটাই বিশ্বাস,
ঘাড়ের উপরে রেখেছি যে বোঝা
একদিন তা নুন হয়ে ধুয়ে যাবে .
দিনরাত খেটে যাই, রাতদিন হেঁটে যাই
গাধাদের কোন ক্লান্তি নেই
তবে ঘুম আছে
বিছানা থেকে অনতিদূর সেই আস্তাবল,
নিজের ঘামে মিশে যায় সমস্ত নুন তাই
সড়ক বরাবর
ছুটে যেতে হয় আমাদের ।

আমাদের ইতস্তত দৌড়াদৌড়ির একটাই গন্তব্য
রাস্তা থেকে বেরিরে এসে ফের রাস্তার খোঁজ-

ক্লান্তি জানে না বোঝার ভার
নুন জানে না গুনের ওজন

দিকবিদিক পিষে চলেছি
মাটির সাথে মাটি
ধুলোর সাথে ধুলো ।

এন

এন

যে কোন দিকেই ঝুঁকে পড়া যায়
পায়ে পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে যে দেহ
ভরবেগ সামাল সামাল করতে করতে গুনে নিই
বৃত্তের ক্ষেত্রফল,
নাম্বার টা 'এন',
এত মানুষের ডাক,
এত মায়বাপ
এত তার অভিমুখ । 

বালতি

বালতি


দড়িগাছার প্রতি তার চিরকাল টান
আর কুয়োর সাথে তার বৈরী
বুকের সাথে বুক জড়িয়ে তার পাকে পাকে সম্পর্ক,
যখন ওড়না ঢাকা জাঠনির গোরা হাতের স্পর্শ পড়ে
লন্ডনময় টেমস ভেঙ্গে ভেঙ্গে
রোম রোম পার করে স্পন্দন
বুকের উপরে উঠে এসে নীরের নিম্নমুখী ধারায়
পিপাসিত নারীর সর্বাঙ্গে এক প্রশ্নচিহ্ন এঁকে
কুয়োর অতলে রিসাইকেলে চলে যায় বালতি ।

কুয়োঁটার কাছাকাছি আজ কোন জাঠ নেই,
অনেকটা সবুজ পড়ে আছে আশেপাশে,
দড়ি, আংটা , সাবান, স্নানের সামগ্রী
জল নামের শীতল তরল তুলে আনতে হলে
বালতিকে অতল গভীরে নামতে হয়,
নীচে,
আরো নীচে ।

দুপা ডুবালেই জল
দুপা এগোলেই দেওয়াল,
দৃষ্টি থেকে কিছুই আর দৃশ্য হয় না
কুয়োটাই একমাত্র সত্য ।

এখানেই আমার একমাত্র পৃথিবী ,
শ্বাসহীন ডুবুরীর মত
ডুবে আছি পাত-কুয়োর জলে
ওড়নাখোলা জাঠনির মুখের ছায়া পড়বে বলে ...

সূচক

সূচক

যা কিছু রুলার ছিলো, ছোট পড়ে যায় বলে
আমি কিছু শূন্য একেট্টা করি,
দাগ দাগ আঙুলগুলো সাজিয়ে
গদগদ ইশারা করি প্রতিবেশীনিকে,
আজ ঠিক দেখো চাঁদনী আর
এক কোয়ার্টার লাক্স
মোলায়েম করে তুলবে অন্ধকারকে ।

দু-হাত বাড়িয়ে যে আকাশ ধরা যেত মুঠোয়
মাইল পর মাইল যত কাছে যাই,
                 দূরে সরে যায় এভারেস্ট
রক্তচাপ কতটা শিখরে পৌঁছালে
সেন্টিমিটার বেড়ে যায়  ?
কোন সূচক আছে ?
উটের গ্রীবার মত স্টক ?

দু-ফোঁটা দুধের জন্য তাই সাদা খাতার কাছে ফিরে আসতে হয়
দু-দৃশ্য রঙের জন্য চাই দিন
আসলে বুঝছি ঢের !

রাত আর তার পরিমাপ !