Saturday, December 9, 2017

ঘড়ি

ঘড়ি

এমন একটা সময় !

ঘড়ি বন্ধ হয়ে আছে
ডায়াল উল্টে ঘুরিয়ে দেখলে যদিও
চলার টিক টিক শব্দে ঘুরে আসে এক চক্র ।

চলন বন্ধ হয়ে যাবার আগে খুঁজে নিতে চায় উত্তরাধিকারী
এই এতটা পথ হেঁটে এসে
কেন জানি মনে হলো
পথের সীমাবদ্ধতার কথা কোন ঘড়ি বলে না ।

ঘড়ির চলনের সংজ্ঞা হলো বেঁধে দেওয়া ট্র্যাক
যেখানে দাদাগিরি করে তিনশো ষাটটা মাইলস্টোন
প্রত্যেকটি অ্যাজিমাথ
হে সময়
বুঝি, এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোন মায়বাপ নেই ।

পথ তো আবদ্ধ  নয়,
এই কালখন্ডে ঘড়িও তো এক সময়কাল
এক এনালগের আকার ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়া ডিজিটাল

দুপাশে পথেরই ভেঙ্গে যাওয়া ছবি
বার বার ডায়াল গুঁড়িয়ে দিয়ে
আবদ্ধ ঘড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় কবি  ।



ঘড়ি
-----

এহ এক এইসা সময় হে

ঘড়ি বন্দ হ্যায়

পর ডায়াল পর কান রাখকে দেখোগে তো
এক চক্কর চলকে আতি হে

অন্তিম টিক শুননে কে প্যাহলে
সজ্জন শুননা চাহতা হে
কোন উসকা ওয়ারিস

ইতনা দূর পায়দল চলনে কে বাদ মালুম হোতা হে
পথ কা বেড় কা বারে মে কোই
ঘড়ি নেহি বাতাতী

ঘড়িকি চলনে কা পরিভাষা হে কি
ও এক বাঁধেহুয়ে ট্রেক

ওর উসমে তিনশ ষাট মাইল স্টোন
এক এক কান্টা
এক এক এজিমাথ

হে সময়
ইতনা তো সমঝতা হু,
ইস ইন্ডাস্ট্রিতে মেরা কোই মাইবাপ নেহি হ্যায় ।
                                       
পর, রাস্তে ভি তো অনন্ত,
দূর , নজর সে ভি দূর
অর ইস পলমে ঘড়ি ভি এক কাল
এক এনালগ কো তোড়কে আগে নিকাল জানা ডিজিটাল

পথ কে দোনো তরফ ইসিকা টুটা হুয়া ছবি
বার বার ডায়াল তোড়কে
চুর চুর করকে
বন্দ ঘড়িসে
নিকাল আনা চাহতা হে কবি  ।






Saturday, October 14, 2017

দেওয়াল

দেওয়াল

১।
দেওয়ালে দেওয়ালে ঝুলে থাকার চেয়ে
বাইরে বেরিয়ে আসতে চাওয়া রং
আর শিল্পীর হাতের আঙ্গুল
আর আঙ্গুলে লেগে থাকা
গ্রে

এসবই ত্রিমাত্রিক
চোখ কোটরে চোখ ঢুকিয়ে দূর থেকে
যতটুকু দূর দেখা যায়

এসবই গভীরতা
কেউ জাল বুনছে
কেউ ঢেউ ভাঙ্গছে
আপন মাত্রায়, রাগে, ছন্দে

দেওয়ালে হেলান দিয়ে
তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি সিসমোগ্রাফ
এইবুঝি ওয়ালপেপার হয়ে যাই ।


২।
সাদামাটা
দেওয়ালে কোন ছবি নেই
একটা পেরেক আটকে আছে
একা নিসঙ্গ ,
ভীষণ ভাবে একা বহুদিন

কোন চাপ নেই,  নেই কোন ভার
নীতিকথা, রাজনীতি, ঐতিহ্য
ঝুলে নেই কোন রাস্ট্রনেতা বা
মহাকবির সহাস্য পোর্ট্রেট

শুধু দেওয়াল আর পেরেক
পেরেক আর দেওয়াল সারাদিন একা
একে ওপরের কাছে সমাপতন
সহসা পতনের আতঙ্কবিহীন

স্থির চিত্ত, দৃঢ় , অটল
শিকড়ে গেঁথে যাওয়া অবিচল বিশ্বাস
দৈর্ঘ্যে প্রস্থে মেপে নেওয়া উল্লম্ব দৃষ্টিকোণ
আর  ঋজুস্মিত হাস্যে মেনে নেওয়া
ভূমির সার্বভৌমিকতা ।

৩।
এই যে এতোটা প্রতিরোধ
এই যে এতটা বাঁধা
যা ডিঙোতে চাইনা আমরা কেউ আর
ভাঙ্গতে চাইনা কেউ আর এই দেওয়াল

অথচ দেখো
দেওয়া তুলে দেওয়া কতটা সময় সাপেক্ষ
এক একটা ইট, চুন , সুরকী , বালি
শতাব্দীর পর শতাব্দী

তবুও নবীন প্রজন্ম এসে
ধরে ফেলে তার ভঙ্গুরতা

এই দেওয়াল,
এতটা ইতিহাস জুড়ে গড়ে ওঠা দেওয়াল
ভাঙ্গতে হয়
ভেঙ্গেও যায়

তবুও সেই দেওয়াল থেকে যায় ।













Monday, August 21, 2017

প্রিন্স অব পার্সিয়া


প্রিন্স অব পার্সিয়া -১

জানালায় কোন দৃশ্য নেই,
দৃশ্য পার করে যাবার
            অক্ষমতাকে
               অতিক্রম করে রাণীকে বাঁচিয়ে আনার
                          অকপট আকাঙ্ক্ষা
             অন্দরমহল থেকে চুম্বনের উড়ন্ত হাতছানি
উপর-নীচ
         পাশাপাশি
তলোয়ারের উজ্বল ধার
আঙ্গুলে-মস্তিষ্কে ঘমাসান

রাণীর বুকের মাংসল ছোঁয়ার ভিতর
যেখানে জিভ রাখতে চেয়ে
          জীবন পণ রেখে
              মারণফাঁদ  থেকে
               ছিনিয়ে আনতে হয়        চুমু
বারবার প্রতিবার
দর-দালান থেকে ঝুর ঝুর
খসে পড়ে ইট



প্রিন্স অব পার্সিয়া -২

বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজা
               বুলন্দ
                     হোসলার কারুকাঠ
ফাঁক হয়ে যাওয়া পরীখা
প্রতিটা লাফের সাথে মরণবাজী
                               আরো এক লেভেল
প্রত্যেকটি ধাপ থেকে সরে যায় লক্ষ্য
ক্লান্ত হয়ে যাবার আগেই এসে পড়ে আর একটি গন্তব্য
গন্তব্য মানে মৃত্যু
মৃত্যুকেই একমাত্র অতিক্রম করতে চাওয়া
পারস্য রাণীর ঠোটে এই চুম্বনের স্বাদ
দর দালানের ভুলভালাইয়াতে পিছলে যাওয়া
কন্ট্রোলে,              স্পেসে
এক একটি দুঃসাহস  
             এক একটা রাজকুমার ...  


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৩

দৃশ্যত যা নিজেকে পার করে যাবার
এই প্রিয়তম কক্ষ ছেড়ে,
অপার সংসার এই জানালার কাছে বসে কি দেখতে চাওয়া ?
জানালার নিজেরতো কোন দৃশ্য নেই
উঁচু ব্যালকনি,
উঁচু এই মহল
আর ক্ষয়ে যাওয়া পাথরে এই বাঁধা সিঁড়িতে
উদ্দাম যৌবন নিয়ে স্খলিত রসায়ন
কেবলি পা পিছলে যায়

দেওয়াল জুড়ে একটাও ছিদ্র নেই,
নেই কোন আটকানো পেরেক
কার্যত এক একটা দেওয়ালকে পিছনে ফেলে
শিংহাসনমুখী, তাজ বরাবর দৌড়

দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে যা কিছু কাল্পনিক ,
ভারচুয়াল
রাণী, রাণী
তোমার নাভিতে যে কোন মুহুর্তে ডুবে যেতে পারে আঙুল
এই বালিশ ভেদ করে, বিছানাপত্র,
শয়নকক্ষ,
ফায়ার প্লেস


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৪

যা কিছু ভাঙ্গার, অক্ষয় থাকে না
বুলডোজার আসার আগে বা পরে

এই অক্ষর, বর্ণমালা, ছন্দ
নদীমাঠ জুড়ে অতলান্ত জল ঢুকছে
তাক করে রাখা আছে ক্যামেরা


নিউজফিডে কোন জানালা নেই
নেই কোন সাতরাঙ্গা বুদবুদ
আর নীচতলা থেকে জলোচ্ছাস উথলে উঠেছে
দোতলায় পা ডুবে যায়
অধরা যা কিছু ছিলো চিলেকোঠার
অধরে যে বাষ্প ধরা আছে
জলীয়

প্রত্যেকটি লম্ফনের আগে
ভেঙ্গে ফেলা দ্বিধা ঢ্যামনামো
জলেডোবা মৃত্যুকে অতিক্রম করতে চেয়ে


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৫

রাণী রাণী
এই ভাঙ্গা আসরে তুমি নেই,
কেউ কবিতা শোনে না
ক্যারোম বোর্ড পড়ে আছে একা

খিলাড়ীরা বোরিক এসিড মেখে ঘরে ফিরে গেছে
ভাঙ্গা আসর
ভঙ্গুরতর বস্তুদের পিচ্ছিল সহাবস্থান

রাণীর কান থেকে খসে পড়া কোন কান বালিয়া
কোমরবন্ধনী থেকে ঝরে পড়া কোন স্বর্ণ আসরফি

দ্বারদেশে কোন সিপাহি নেই
ঠহলদারীর কোন নিয়ন বাতি নেই,
গার্ডপোস্টে সাদাকালো নিয়ে অপেক্ষা করে
প্রাচীন অরণ্য ঠুকরে ফিরে আসা প্রবাদ
আর বিখরে যাওয়া বেতালের খুলি ।


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৬

যা পুড়ে যেতে চায়,
পুড়িয়ে যেতে যায়
নিজস্ব শরীর সমেত , নিজস্ব আকার, শ্রী
কপাটের আড়ালে রাখা কলস সমূহ

সোনা,
আমার সোনা
অঙ্গে সোহাগা মেখে জল আর লবনের প্রতীক্ষা

এর অর্থ যদি প্রবেশাধিকার হয়,
প্রতিযোগীতাহীন ডুয়েল
এই বীরত্ব থেকে
এই কবিত্ব থেকে
চুমুর উপাখ্যান ভষ্ম হয়ে যাবে
প্রতীয়মান দৃশ্য থেকে মুহূর্তে পিছলে যাবে যুবরাজ
যেখানে নিশব্দে পুড়ে যেতে চায় আগুন
আত্মহত্যার প্রস্তুতিপর্বে যেখানে আবদ্ধ পাত্রের মধ্যে
ওত পেতে থাকে তেজস্বী অম্লজান ।


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৭

আবদ্ধ থাকার ভিতর যে নিঃশব্দ থাকে, 
থাকে বিপ্লবের প্রস্তুতি
তুমি তাকে লোহার শিকল দিয়ে সংজ্ঞায়িত করো
আর মুক্তি বলে যা কিছু তুমি স্বীকারোক্তি দাও
তুমি জানো প্রহরী
এই কারাগারের প্রত্যেকটি দেওয়ালে
প্রতিটা একক ইট
তাদের কানে কানে তুমি
গর্ভবতী ঝিনুকের কথা এমন ভাবে বলো যে 
তাদের কান গরম হয়ে ওঠে
তাদের এমন ভাবে উপস্থাপন করো
এই শৃংখল, এই বেড়ী, গারদ, তালা যে
নিকষ কালো অন্ধকার আর দেওয়াল
একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়ায়

মুক্তার বীজ নিয়ে 
এক পুর্ণাঙ্গ ঘমাসানের জন্য তৈয়ার গোকুল ।


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৮

কারো ছায়া এগিয়ে আসে
এই নশ্বর শরীরের দিকে

ত্রিমাত্রিক-যা কিছুটা সম আয়তন,
কিছুটা নিজের অবয়ব, কিছুটা গ্লসি ব্লারড
অথচ অস্ত্রশস্ত্রের দিকে ধ্যান দিলে মনে হয়
ভিন্ন শতাব্দীর সামুরাই ।

হাতে অসি তুলি, সে তুলে নেয় আগ্নেয়অস্ত্র
ইনফ্রা-রেড, লেজার
কেউ ভয় পায় না
একে অন্যের দিকে অস্ত্র হাতে উদ্যত


হিলিং কম হয়ে আসে
বিপ, বিপ
দ্রুত শেষ হয়ে আসছে হেলথ ইন্ডেক্স

উন্মুক্ত দরজা বন্ধ হয়ে যায়
ছায়াকে মৃত ঘোষণা করে
খুঁজতে থাকি আর একটা দরজা ।

























Friday, June 30, 2017

পার্কে


পার্কে

"এই নিয়ে কত পাক হলো বলো তো  ? "
একমাথা বকসাদা চুল মাথায় নিয়ে
দাঁড়িয়ে পড়ে হরিপদ
তাকায় পারুলের দিকে,
সমস্ত শতাব্দী যেন কুঁকড়ে আসছে তার চোখে
রক্তে শর্করার পরিমান বাড়ছে ,
কবিরাজি পরামর্শ এই সময়ে
দুজনেরই প্রাতভ্রমন আবশ্যিক


আজও নিয়ম মাফিক হাঁটছে তারা
সবুজ পার্কের বাঁ পাস দিয়ে ক্লক ওয়াইজ,
অর্থাৎ যেদিকে ঘড়ি যায়
সময়ের সাথে সাথে শরীর ঘামছে ,
পার্কে বেড়ে ওঠা সবুজ বরাবর সূর্য উঠছে,
গাছপালাগুলো ও পাল্লা দিচ্ছে,
আকাশ ছুই ছুই কে

হরিপদ দেখছেন
একই গন্তব্যে,
ঘর, বাড়ি আর পায়চারি
গতিজাড্য সামলে নিয়ে পায়ে পায়ে চলা ট্র্যাক
 

"আজ খানিকটা অ্যান্টি-ক্লক ওয়াইজ
চক্কর কেটে হেঁটে আসি চলো"
বলল পারুল,
তার চোখে চোখ রেখে দেখলে আরো সবুজ ঘিরে আসে
একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকেন দম্পতি  
ঘর থেকে যে পথ পার্কে হেঁটে এসেছিলো
পার্ক থেকে সেই পথ
হাঁটা পথে ক্রমশ ঘরে ফিরে যায় ।

লাফিং ক্লাব


লাফিং ক্লাব

সকাল জুড়ে সে সব পার্ক
এই মাওয়ালী সময়
যার থেকে বিল্ডিং আর বিল্ডার আলাদা
মাঠ আর মাটির মালিকানা পৃথক
এমন সময় কিছু চুলওয়ালা
আর চুলহীন চকচকে টাক
বলা যায় তুলতুলে ভুড়িওয়ালা
বা পেটানো ক্ষয়ে যাওয়া বডি
বা রিক্সাওয়ালার সঙ্গে একই বয়সে
টয়োটা করোলা চড়া দশাশই ম্যানেজার
এইসব নিয়ে লাফিং ক্লাব
এই প্রসঙ্গে এত্ত সকালে পার্কে ভীড়

সবুজ হয়ে যাচ্ছে মাঠ
দুর্ব্বার নেটওয়ার্ক নিয়ে মালীদের নিজস্ব মালিকানা

সবুজ ঘাস নিয়ে বসে থাকা এই সকাল
ঘাসের ভিতরেও নিশ্চুপ বসে থাকে ঘাস
প্রভাত পায়চারি
উচ্চ স্বরে ফোকলা দাঁতের হাসাহাসি,
হো হো হো হো
নকল হাসির মধ্যেও কোথাও যেন একটা নিশ্চুপ
হাসি লুকিয়ে থাকে

Wednesday, March 8, 2017

এথিক্স

এথিক্স  // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

এথিক্স নিয়ে আর কুকুরের সাথে শুয়ো না,
যে নিশা ফুরিয়ে যায় যায় সুতীব্র কন্ডোমের ঘ্রানে
বিশ্বস্ত লালার কাছে তুমি
           আর বালিশ নিয়ে এসো না
এর চেয়ে ঢের বেশী মাংসল পলাশ মান্দার ।

এভাবে না ডাকা ভালো, বিলকুল কিনারায়
যেখানে গভীর হতে চেয়ে পাড় ভাঙ্গে নদী
এতটাই গভীর যেখানে ডুবে যেতে যেতে
এই সব সীমাহীন অন্ধকার
বীজ
তুমি বরং এমন একটা সুচারু রোবট খুঁজো,
যার চাবি শুধু তোমার হস্তরেখার মত আপন,
আর একান্ত তোমার
কোনদিন স্বপ্ন হতে চায় না যে সব ব্যবহার
শীতঘুম থেকে নীচে না নামতে চাওয়া নাছোড়বান্দা
পাহাড়
বিছানায় তাকে ফেলে কেন আর কুকুর সম্বোধন
এক হাতে বালিশ আর এক হাতে সঙ্গম
ধ্বনি থেকে তাপ নেবে গেলে থার্মোমিটার ভেঙ্গে পড়ে,
এই বিশ্বাস এমন এক ধাতুপ্রিয় ভাইরাস যে

বিছানাময় পারদ নিয়ে ভিজতে থাকে রাত ।

গোষ্ট গোপাল দাশ

নদী ভরা ঢেউ
পীযূষকান্তি বিশ্বাস

বিস্তর জমি পড়ে আছে, জমে আছে বিশ্বাস
এই ভিরানায় আসমানি কিতাব
ফসল কাটার নামে হেমন্ত এনেছে

এই চক্রবৃদ্ধিহার,পারমুটেশন আর কম্বিনেশন
আমাকে বলোনা আর সংখ্যা তত্বের কথা
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে
এক হার্ড ডিস্ক থেকে অন্য হার্ড ডিস্ক

বুকের উপরে জেগে উঠছে সবুজ চর
পাজরের নীচে বয়ে যাচ্ছে  লাল নদী
কন্ঠ বরাবর ভিজে উঠছে গামছা,
লাল লাল বিপন্ন বৈঠায়
মাঝরাত কাবার করে নিঃশব্দে নিরবে
পদ্মা ছুটে যায়

হেমন্ত নামছে মাঠে...
সোনালী ধানের পাশে
বিশ্বাস আর  প্রবাহমানতা  নিয়ে
এই ভরা মাঠ,  নদী
উপছে পড়া ঢেউ
সোনার ফসল কেটে ছিন্ন মস্তক

কোন ভাটিয়ালি তুমি গাও হে নাবিক ?



ট্যাংরা তবু কাটন যায়

আমি একটা কুয়োঁর কথা বলছিলাম,
নির্ভেজাল পাড়ে বাঁধা নিটল
এখানে রাখতে পারো দুএকটা হাঁস,
জলকলমীর ঝাড়
গোল-মাটল না হলেও খানিকটা তেকোনা হতে পারে
যার ত্রিসীমানায় আমি কোন উস্তাদ রাখতে চাইনে

যে কোন পুকুর মানে স্নান নয়,
বন্ধু অর্থে নয় প্রিয় সুহৃদ
এই বায়ু, আকাশ লক্ষ্য করে
জলস্তর পার করে উঠে আসে যে সব ফ্লোরা

জল আছে জেনেই
তার কাছে একটা ঢেউ রাখা হলো
স্বচ্ছতার কাছে একমুঠো পলি নিয়ে আসা
ভ্যাদার করুণ চোখে ডোমিনোজের  নীল আবেগ
অথচ
অস্তিত্বের কাছে থিতু হয়ে আসা
ভয় নিয়ে ,
ক্ষুধা নিয়ে
শিঙি মাছটা কিছুতেই কাটা মারতে পারছে না

এমন একটা হাতে আঁকা কুঁয়ার কথা বলছিলাম
মাই লর্ড ,
জলের গভীর প্রদেশে  মা কসম
যে কোন অখন্ড বৃত্ত
যে কোন পারফেক্ট পিরামিড
বোয়ালের জ্যাবড়াতে চূর চূর হয়ে যায়


বনমালী তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা
-------------------------------

পড়ে আছে মাঠ এক আগুন তল্লাশী কাম,
বীজ বিছিয়ে বিছানায় পড়ে আছে সকাল

এই ধানখেতের পাশে কাঙাল গাং নিয়ে
তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠা একবুক
কাঠফাটা চৌচির
জেনো না এই জুন আর যৌনতার বক্রতা
দুর্বার খিদের সাথে শুষে নেওয়া লিফি লিফি দুর্বা
দুগ্ধহীন বলে কেউ অবুঝ নেই আর ।

কতদিন মেঘ গাঢ় হয়নি এই ঘাসে
ঘাস, অনেক কাল্পনিক ঘাস এইখানে আঙুল দিয়ে
বলেছিতো বারবার একই কথা,
এই নেশা থেকে
মাঠ তুলে নিয়ে দেবো এক আছাড়...
সমকাম থেকে সাম্য আসে না বনমালী
অযথাই সুদামার কাছে গোপন করেছো অভিপ্রায়

আর চাষবাস ভাললাগেনা মৃন্ময়ী
এবার গোষ্টে একটা লম্বা ঘুম দেবো

তারপর শীতভুক বসন্ত,
এই চৈত্র পার হয়ে গেলে
জ্যোষ্ঠ কন্যার শুভ পরিণয় হবে
ফিরে আসিবেন না সে কাজোল ভ্রমরা আর
এই রাত,
এই উজাগর মোরগ নিয়ে এই যৌবন কাবার

বনমালীগো তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা ।


মাঝি বাইয়া যাওরে
------------------

এক নং ঢিল
নিশানা থেকে পাখি উড়ে যায়
পাখা থেকে মনে পড়ে শয়নকক্ষের কথা
এই সব পালক দিয়ে এই সাধের বিছানা বালিশ
উড়ে যায় এই অবকাশ,
উড়িয়ে দিই পাখনা

দুই নং ঢিল
আগুয়ান রাত থেকে পায়ে পায়ে ছুটে যায় রোদ
মহাজাগতিক তরঙ্গ থেকে এই পদক্ষেপ
যেভাবে দিন ডুবে যায় আর
যেভাবে দিন চলে যায়
বেশতো খুঁটে খাচ্ছি দানা

তিন নং ঢিল
মায়ের পেট থেকে কেটে নিচ্ছি পেট
বাবার পকেট থেকে রাজমা চাওল
সুর ছুটে যায় - ভাঙে ভাঙুক এই ভাড়
মাঁরগাড়াক এই হারমোনিয়া

ঢিল নং এন
যৌবন উছলানো আমার ঢেউ
খেলে যাচ্ছে রৌদ্র ছায়ায় নদীর দুইপাড়
এর দিকে ও,  ওর দিকে এ
উথালি-পাথালি ছুড়ে যাচ্ছে বালি

ভাঙা হাতে বৈঠা নিয়ে
হাত নিশপিশ করে, মাঝি
জলতরঙ্গের কোমল পায়ে পড়ে
আমার ভাঙা পাও ।