Wednesday, March 8, 2017

এথিক্স

এথিক্স  // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

এথিক্স নিয়ে আর কুকুরের সাথে শুয়ো না,
যে নিশা ফুরিয়ে যায় যায় সুতীব্র কন্ডোমের ঘ্রানে
বিশ্বস্ত লালার কাছে তুমি
           আর বালিশ নিয়ে এসো না
এর চেয়ে ঢের বেশী মাংসল পলাশ মান্দার ।

এভাবে না ডাকা ভালো, বিলকুল কিনারায়
যেখানে গভীর হতে চেয়ে পাড় ভাঙ্গে নদী
এতটাই গভীর যেখানে ডুবে যেতে যেতে
এই সব সীমাহীন অন্ধকার
বীজ
তুমি বরং এমন একটা সুচারু রোবট খুঁজো,
যার চাবি শুধু তোমার হস্তরেখার মত আপন,
আর একান্ত তোমার
কোনদিন স্বপ্ন হতে চায় না যে সব ব্যবহার
শীতঘুম থেকে নীচে না নামতে চাওয়া নাছোড়বান্দা
পাহাড়
বিছানায় তাকে ফেলে কেন আর কুকুর সম্বোধন
এক হাতে বালিশ আর এক হাতে সঙ্গম
ধ্বনি থেকে তাপ নেবে গেলে থার্মোমিটার ভেঙ্গে পড়ে,
এই বিশ্বাস এমন এক ধাতুপ্রিয় ভাইরাস যে

বিছানাময় পারদ নিয়ে ভিজতে থাকে রাত ।

গোষ্ট গোপাল দাশ

নদী ভরা ঢেউ
পীযূষকান্তি বিশ্বাস

বিস্তর জমি পড়ে আছে, জমে আছে বিশ্বাস
এই ভিরানায় আসমানি কিতাব
ফসল কাটার নামে হেমন্ত এনেছে

এই চক্রবৃদ্ধিহার,পারমুটেশন আর কম্বিনেশন
আমাকে বলোনা আর সংখ্যা তত্বের কথা
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে
এক হার্ড ডিস্ক থেকে অন্য হার্ড ডিস্ক

বুকের উপরে জেগে উঠছে সবুজ চর
পাজরের নীচে বয়ে যাচ্ছে  লাল নদী
কন্ঠ বরাবর ভিজে উঠছে গামছা,
লাল লাল বিপন্ন বৈঠায়
মাঝরাত কাবার করে নিঃশব্দে নিরবে
পদ্মা ছুটে যায়

হেমন্ত নামছে মাঠে...
সোনালী ধানের পাশে
বিশ্বাস আর  প্রবাহমানতা  নিয়ে
এই ভরা মাঠ,  নদী
উপছে পড়া ঢেউ
সোনার ফসল কেটে ছিন্ন মস্তক

কোন ভাটিয়ালি তুমি গাও হে নাবিক ?



ট্যাংরা তবু কাটন যায়

আমি একটা কুয়োঁর কথা বলছিলাম,
নির্ভেজাল পাড়ে বাঁধা নিটল
এখানে রাখতে পারো দুএকটা হাঁস,
জলকলমীর ঝাড়
গোল-মাটল না হলেও খানিকটা তেকোনা হতে পারে
যার ত্রিসীমানায় আমি কোন উস্তাদ রাখতে চাইনে

যে কোন পুকুর মানে স্নান নয়,
বন্ধু অর্থে নয় প্রিয় সুহৃদ
এই বায়ু, আকাশ লক্ষ্য করে
জলস্তর পার করে উঠে আসে যে সব ফ্লোরা

জল আছে জেনেই
তার কাছে একটা ঢেউ রাখা হলো
স্বচ্ছতার কাছে একমুঠো পলি নিয়ে আসা
ভ্যাদার করুণ চোখে ডোমিনোজের  নীল আবেগ
অথচ
অস্তিত্বের কাছে থিতু হয়ে আসা
ভয় নিয়ে ,
ক্ষুধা নিয়ে
শিঙি মাছটা কিছুতেই কাটা মারতে পারছে না

এমন একটা হাতে আঁকা কুঁয়ার কথা বলছিলাম
মাই লর্ড ,
জলের গভীর প্রদেশে  মা কসম
যে কোন অখন্ড বৃত্ত
যে কোন পারফেক্ট পিরামিড
বোয়ালের জ্যাবড়াতে চূর চূর হয়ে যায়


বনমালী তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা
-------------------------------

পড়ে আছে মাঠ এক আগুন তল্লাশী কাম,
বীজ বিছিয়ে বিছানায় পড়ে আছে সকাল

এই ধানখেতের পাশে কাঙাল গাং নিয়ে
তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠা একবুক
কাঠফাটা চৌচির
জেনো না এই জুন আর যৌনতার বক্রতা
দুর্বার খিদের সাথে শুষে নেওয়া লিফি লিফি দুর্বা
দুগ্ধহীন বলে কেউ অবুঝ নেই আর ।

কতদিন মেঘ গাঢ় হয়নি এই ঘাসে
ঘাস, অনেক কাল্পনিক ঘাস এইখানে আঙুল দিয়ে
বলেছিতো বারবার একই কথা,
এই নেশা থেকে
মাঠ তুলে নিয়ে দেবো এক আছাড়...
সমকাম থেকে সাম্য আসে না বনমালী
অযথাই সুদামার কাছে গোপন করেছো অভিপ্রায়

আর চাষবাস ভাললাগেনা মৃন্ময়ী
এবার গোষ্টে একটা লম্বা ঘুম দেবো

তারপর শীতভুক বসন্ত,
এই চৈত্র পার হয়ে গেলে
জ্যোষ্ঠ কন্যার শুভ পরিণয় হবে
ফিরে আসিবেন না সে কাজোল ভ্রমরা আর
এই রাত,
এই উজাগর মোরগ নিয়ে এই যৌবন কাবার

বনমালীগো তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা ।


মাঝি বাইয়া যাওরে
------------------

এক নং ঢিল
নিশানা থেকে পাখি উড়ে যায়
পাখা থেকে মনে পড়ে শয়নকক্ষের কথা
এই সব পালক দিয়ে এই সাধের বিছানা বালিশ
উড়ে যায় এই অবকাশ,
উড়িয়ে দিই পাখনা

দুই নং ঢিল
আগুয়ান রাত থেকে পায়ে পায়ে ছুটে যায় রোদ
মহাজাগতিক তরঙ্গ থেকে এই পদক্ষেপ
যেভাবে দিন ডুবে যায় আর
যেভাবে দিন চলে যায়
বেশতো খুঁটে খাচ্ছি দানা

তিন নং ঢিল
মায়ের পেট থেকে কেটে নিচ্ছি পেট
বাবার পকেট থেকে রাজমা চাওল
সুর ছুটে যায় - ভাঙে ভাঙুক এই ভাড়
মাঁরগাড়াক এই হারমোনিয়া

ঢিল নং এন
যৌবন উছলানো আমার ঢেউ
খেলে যাচ্ছে রৌদ্র ছায়ায় নদীর দুইপাড়
এর দিকে ও,  ওর দিকে এ
উথালি-পাথালি ছুড়ে যাচ্ছে বালি

ভাঙা হাতে বৈঠা নিয়ে
হাত নিশপিশ করে, মাঝি
জলতরঙ্গের কোমল পায়ে পড়ে
আমার ভাঙা পাও ।