Thursday, September 23, 2021

ইট

ইট -১

সীমান্তে সীমারেখার দূর নেই
তুলোটকাগজে আঁকা থাকে অনন্ত এক
ওই খানে পাখি ডাকা মানা
তার ঠোটে শূন্য
ডানায় লালডোরা

এ জমির নাম কি নাম দেবো
কাঁচ মানে তো রেশমী চুন্নীর আড়
পাখিরা উড়তে পারছেনা দেখে
স্কুলফেরত জাঠতনয়ার আঁখ ভরে আসে

বনান্তে ডেকে ওঠে জমি
এতদূর থেকে আর ফেরা যাবে না
ভিজে ওঠা দ্বারকা
মাটি নাজুক ও নরম
এতো জানা স্বত্বেও প্রবল পরাক্রমে
কেন যে  তার কোমল গোপনাঙ্গে
লাল ঝামা ইট ঢুকিয়ে দেওয়া ।

-----x---------

ইট -২

ইটকে ইট বাজিয়ে এই শড়ক
নাগরিকতা ছাপিয়ে যাওয়া এইট-লেন ধোলাকুয়া,
এখানে আমি তার মাটি ও স্বচ্ছতা রেখে যাই
আর এখানে তার পাতলি
গলি পথে যদি তুমি ছুটে আসো
কোমরবন্ধে আগুন আর আভা নিয়ে
এই গাঁও কখনযে গুরু,
কখন যে গ্রাম
অচানক কখন যে লালে লাল হয়ে যায় ।

---------



ইট -১
সীমান্তপ্লাবন ঘিরে ঐ দূর অট্টালিকা, 
এইখানে তার ছায়া ঘনায় 
ঐ দূরগাঁও - দূর দূর পঞ্চায়েত
হলুদ হলুদ আর ডিসেম্বর নেমে আসা অনন্ত 
রায় পিথোরার রন্ধন প্রদেশ
ব্ল্যাকবোর্ডে দাগ নেই
লালডোরা মানে প্রবেশ নিষেধ

এ জমি আমি kar নামে লিখি ? 
কাঁচ মানে তো রেশমী চুন্নীর আড় 
দোয়েলারা উড়তে পারছেনা দেখে
স্কুলফেরত জাঠতনয়ার আঁখ ভরে আসে

দূরান্তে ডেকে ওঠে ভূমি
গর্ভে সবুজ নিয়ে তার জননী হয়ে ওঠা
মাটি তার নাজুক ও নরম 
এতো জানা স্বত্বেও 
প্রবল পরাক্রমে হে মালিক তার কোমল গোপনাঙ্গে 
কেন যে লাল ঝামা ইট ঢুকিয়ে দেওয়া ।

-----x---------

ইট -২
ইটকে ইট বাজিয়ে এই সড়ক
নাগরিকতা ছাপিয়ে যায় ধোলাকুয়া, 
এখানে আমি তার স্বচ্ছ রেখে যাই 
আর এখানে তার পাতলি
যদি তুমি ছুটে আসো 
কোমরবন্ধে আগুন নিয়ে , 
আভা নিয়ে
এই গাঁও কখনযে গুR, 
কখন যে গ্রাম
কখন যে লালে লাল হয়ে যায় ।

---------

ইট -৩

নজফগড় ডাকছে ঐ সীমানায়
ওখানে পাখি ডাকা মানা
অনন্তপাখিদের 


ইট -4


আনজান উড়ানরেখায় যে তীর চলে গেলো , 
তুমি তার খাতা লিখে দাও ।

যে অর্থ কখোনো নৈতিক নয়, 
তুমি তাকে নজফগডে রেখে আসো । 

আর এইখানে কাকরোলা মোড় , 
অনন্ত পাখি ডেকে ওঠে , 
যে জীবন দেয়েলের ,সবুজের নয় , 
এই জেনে 
গগনচুম্বি এই লালমাটি যে ফসল ধরিয়েছে , 
তুমি তাকে কাস্তে দিয়ে কাটো ?  

জানকারি খতরনাক । 
বদলাও বললে বদলায় না 
ইটের নিকনেম বদলা হতে পারে ,  
পাঁচTiতারাr আলো যখন ফুটেছে 
এই dwarokar আকাশগঙ্গায় ।


ইট -5
বাত্তি হতে পারে সংখ্যাজনক, 
বিজোড় থেকে ইট খুলে যায় ।  
ভাগশেষ ও ভূমিকা নিয়ে সম্পদ 
আরোহন করে বিষয় ।

প্রান্তজনেরা লিপিবদ্ধ করে সেই বারংবার 
রঙ নিয়ে চাওয়ালা লেবু লিখেছেন 
কাঁচের বয়াম জেগে আছে টাং 
ভূমিকা নিয়ে যে রাত হোটেলে an-protected suyechen,  
আওয়াজ করে তার বিষয় খুলে যায় ।

kbita hariye zay,
ami হারিয়ে যেতে পারি , 
যে কোন সংখ্যায় আমি  khule jete pari  , 
ভাগশেষে পড়ে থাকা 
চুর্ণ ইট নিয়ে 
যে কোন সময় হয়ে যেতে পারি 
দেওয়াল লিখন ।

Tuesday, September 7, 2021

Anubaad

 

  

BIO NOTE


Born in Mumbai in 1971, Anand Thakore grew up in India and in the United Kingdom. He has spent most of his life in Mumbai. His published collections of poetry include Waking In December (2001), Elephant Bathing (2012), Mughal Sequence (2012), Selected Poems (2017) and Seven Deaths and Four Scrolls (2017). A Hindustani classical vocalist by training, he has devoted much of his life to the study, performance, composition and teaching of Hindustani vocal music. He received musical instruction for many years from Ustad Aslam Khan, Pandit Baban Haldankar and Pandit Satyasheel Deshpande. He is the founder of Harbour Line, a publishing collective, and of Kshitij, an interactive forum for musicians. He holds an MA in English Literature and is the recipient of grants from The Ministry of Human Resource Development and The Charles Wallace India Trust. He lives in Mumbai and divides his time between writing, performances, and teaching music. His fourth collection of verse, entitled Seven Deaths and Four Scrolls, was recently shortlisted for The Jayadeva National Poetry Award.




PLACE DATE AND YEAR OF BIRTH: Mumbai, India, 17-2-71


PLACE OF RESIDENCE: Mumbai (25 Meera Bld., LD Ruparel Marg, Malabar Hill , Mumbai 400006)


NATIONALITY: Indian


CONTACT DETAILS: Mr. Anand Thakore, email: anandthakore@gmail.com, Mob: 9869460974

Address: 25 Meera Bld., 5th. Flr., LD Ruparel Marg, Malabar Hill , Mumbai 400006


-----------------------

OBVERSE


for Deepankar Khiwani



Because you will never see this I now write this line:

the image on my mobile screen –

one side of a face

on a coin from the age of Constantine the Great;

the wreathed head and sinister single eye 

of a man whom – of course –

no-one alive could possibly have seen.


A Coin for the boatman, Anand? – I’m well beyond that now...


Hmm...a retort, as expected! I sense your wit, my friend,

Your boyhood love of the Hellenic – but no, I remind myself,

this isn’t you speaking,

just me mumbling to myself the sort of thing

you might have said.

I want to show you this coin,

this printed face in profile,

though it seems unlikely – even if I could – 

that where you now are

such things continue to interest you...


you, who always said I could never quite see you,

because I never paused long enough to look;

because each time your eyes were about to say something

your lips couldn’t say, I looked aside.

I want you to know:

it is because you will never see them

I now write these lines.


















TIDAL WAVE



Believe me, 

I didn't mean to do this. 

I believed, with the seers and ecstatics, 

That the sea would bring me 

Where I needed to arrive, 

That no amount of lunging shorewards or holding back, 

Could alter anything about to happen. 

I began as a tremor, 

A shudder in the brooding loins of the sea, 

That set me moving to no visible end. 

Her sway seemed to hold all motion in place 

And I dreamed of nothing that breathed beyond her skin, 

Was granted no visions, as she urged me on –

Spurring me out of her, yet tightening her grip –

Of the fields I would swamp, the children I would drown, 

The homes I would crush with soft claws of water.

Nor could I tell,

As those doomed coasts drew near, 

That in their ruin lay also my own;

Or the end, at least, 

Of the only chance I thought I had 

Of being truly born,

Of being anything more than an aspect of sea. 

Unspawned, I remain now as ghosts remain, 

A voice in the veins of those who survived me 

That clings to a theme they long to forget –

Yet hear me now, 

Women of the coast, offspring of the dead, 

You whose progeny I snatched from your arms, 

Whose crops I wrecked and whose cattle I killed, 

Hear me and see how softly I speak: 

No roar. No crash. 

No surging crescendo, no deafening cascade, 

No rapt interjections of spindrift and surf; 

And no more of that turgid, moon-depraved magniloquence 

That brought me briefly to believe myself 

A being apart from the sea that bore me. 

Friends of the departed, lovers of the drowned, 

Hear me when I say I had no will in this matter.





THREESOME



So now you call long-distance to remind me

My late friend is not just mine to mourn,

But also yours –

Though things turned sour between you,

And the two of you haven’t spoken in twenty years. 

I understand: you wish to reclaim a lost right to grief,

And to tell me – though, of course, you do not mention this –

That in the great list of things we have shared, you and I –

Tarkovsky, Tolkien, riverfish in mustard sauce,

Boat rides, skinny dipping, rain,

The same therapist, the same cheap rooms in grimcrack hotels –

We must not now forget to include

A dead man’s insatiable, irretrievable member.

You will want to fondle them, perhaps, 

When you read this, alone in your room 

On your laptop screen with the lights switched off,

The breasts I could never quite bring myself to share –

Though I tried, believe me –

With the recently dead.

-----------








    














CREEPERS ON A STEEL DOOR


Three months now, creeping up this door,

Half-open, between myself and the garden-yard.

I wonder, why at times, it is so hard,

To reach the wide world across the narrow floor.


Space must have its bounds, I suppose,

Though the heart’s first impulse be to leap.

The creeper does not wish to move, it simply grows -

It is the eye that makes these broad leaves creep.


But see how tight each tendril grips the grill,

Where the highest leaves, transluscence-shy, peep inside.

I can tell what makes them want to hide;

Could they hear, I would tell them – looking in can kill.




  









 



মুদ্রাপিঠ


( দীপঙ্কর খিওয়ানির জন্য )



যেহেতু, আপনি দেখতে পাবেন না এক্ষুনি যে পংক্তিটি আমি  লিখতে চলেছি:

যে মুহূর্তে আমার মোবাইলে  ভেসে উঠেছে একটি ছবি -

একটি মুখের একপাশে

গ্রেট কনস্টানটাইন এর যুগের একটি মুদ্রার উপর;

পুষ্পসজ্জিত একটি মস্তক আর একটি অশুভ চাহনি

একজন মানুষের ছবি যাকে - অবশ্যই -

জীবিত কেউই সম্ভবত দেখতে পেত না।


মাঝিমল্লারদের জন্য একটি মুদ্রা, আনন্দ? - আমি এখন ধারেকাছেও  কোথাও নেই ...


হুম ... প্রত্যাশা যেমন প্রত্যাশা! দোস্ত, আমি আন্দাজ করতে পারি আপনার পরিভাষা, আমার বন্ধু,

আপানার শৈশবের ভালোলাগা হেলেনীয় প্রেম - না আমি, আমি বারংবার মনে করিয়ে দিতে চাই,

এই কথাটি আপনি বলছেন না,

আমিই বলে চলেছি নিজের ভাবনা 

যা হয়তো আপনি কোনদিন বলে থাকতে পারেন ।


আমি আপনাকে এই মুদ্রাটি দেখাতে চাই,

এই মুদ্রিত চেহারার প্রতিচ্ছবি,

যদিও এটি অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে - যদি আমি পারতাম - 

দেখাতাম আপনি এখন যেখানে থাকেন 

আপনি হয়তোবা তা পছন্দ করতেন ... 


আপনি, বলেছিলেন যে আমি আপনাকে কখনও দেখতে পাইনি,

কারণ দেখার মতো করে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকিনি;

কারণ প্রতিবার আপনার চোখ কিছু বলার চেষ্টা করছিল

আপনার ঠোঁট থেমে যাচ্ছিলো ।  আমি দেখছিলাম পাশে বসে ।

আমি তোমাকে জানতে চাই:

কারণ আপনি কোনদিনই এই সমস্ত দৃশ্য দেখতে পাবেন না 

তাই আমি আজ এই কটি পংক্তি লিখে গেলুম । 



-------------------------------------



সামুদ্রিক ঢেউ



বিশ্বাস করুন,

আমি একথা বলতে চাইনি।

আমি বিশ্বাস করি, বিধি ও পরমেশ্বর যদি চান   

আমার সঙ্গে দেখা হয়ে যেতে পারে সমুদ্রের

যেখানে আমার পৌঁছানোর কথা ছিল ।

যতই সমুদ্রতট অভিমুখে হেঁটে যাই  অথবা অলস বসে থাকি পথপাশে  

কোনটাই আমার সমুদ্র দেখা আটকাতে পারবে না 


আমি কাঁপতে কাঁপতেই শুরু করি,

অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে তার ফেনাময় বিশাল তরঙ্গের নৃত্য দেখে,

আমি হেঁটে যাই সেদিকে যেদিকে বরং কোন কিনারা নেই 

মনে হয় সমস্ত সমুদ্র তরঙ্গ একস্থানে একত্রিত 

এবং আমি তার ত্বকের নিঃশ্বাস নিতে পারা ছাড়া কিছুই স্বপ্ন দেখি না 

যেখানে সমুদ্র আমাকে আলাদা কোন দূরদৃষ্টি দেবে

অন্ততঃ আমাকে তার করাল কবল থেকে তুলে 

আমার সন্তান সহ আমাকে নিক্ষেপ করবে জংলায়

আমার ঘরবাড়ি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে চলে যাবে জলের তলায়

না, আমি ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারছি না

এই সব ভেঙ্গেচুরে যাওয়া সমুদ্রতট,

চূর্ণবিচূর্ণ ধ্বংসস্তূপগুলি ধবংসাবাশেষে আমি নিজেকে দেখতে পাই

অথবা আমার অন্তিমযাত্রা, অন্ততঃ   

আমি ভাবি, একটা সুযোগ আমার কাছে ছিলো

একটা সার্থক জীবনযাত্রার

একটা এমন কিছু যা সমুদ্রতর কিছু,

আর আমি রয়ে গেলাম প্রতাত্মার মতো 

যারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো তাদের হইয়ে কিছু বলবার জন্য 

সমুদ্রতটে বিঁধে রাখা সেই ভয়াবহ আবহকে মানুষ ভুলে যেতে চেয়েছিলো

তবুও এখন আমাকে শোনো,

সেই সব উপকূলের সন্তানসম্ভবা মহিলারা, মৃতদের বংশধরেরা 

সেই সব বাচ্চাদের আমি ছিনিয়ে আপনার কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলাম

সেই সব শষ্যক্ষেত্র যা আমি ধুলিস্যাত করেছি, পালিত পশুপাখি যা আমি খুন করেছি

আমাকে শুনুন এবং দেখুন আমি কতটা নম্রভাবে কথা বলছি:

গর্জন নেই । কোন হুমকার নেই  ।

কোনও উচ্চ চিৎকার নেই, নেই কোনও বধিরতা অশ্রুধারা,

নেই কোন অকস্মার ঝঞ্ঝার ও ফেনাময় জোয়ারের আভাস ;


আর নেই সেই আচমকা ফুলে ওঠা জলোচ্ছাস, কুটিল চন্দ্রমালার অলংকার 

যা আমাকে সংক্ষেপে শিখিয়েছে নিজের উচ্চারণ 

সমুদ্রযাপন থেকে অনন্যকিছু যা আমায় জ্বারিত করেছে

সেইসব ছেড়ে যাওয়া প্রিয়তম বন্ধুগ্ণ, নিমজ্জিতদের প্রেমিকেরা

তবুও আমাকে শুনুন যখন আমি বলছি, সত্যি এই ব্যাপারে আমার কোন ইচ্ছাই ছিলো না । 



ত্রয়ী



সুতরাং, এখন আপনি আমাকে সাত সাগর তের নদী থেকে কল করুন আমাকে মনে করিয়ে দিতে

যে আমার প্রয়াত বন্ধুটির জন্য শোক কেবল আমার একার জন্য নয়,

তবে আপনার -

যদিও পারস্পারিক সম্পর্কগুলি আপনাদের মধ্যে তেমন সুমধুর নেই 

এবং আপনারা দু'জন বিশ বছরেও কথা বলেননি।

আমি বুঝতে পেরেছি: দুঃখ প্রকাশের জন্য আপনি হারানো অধিকার পুনরায় দাবি করতে চান,

এবং আমাকে বলতে চান - যদিও অবশ্যই আপনি এটি উল্লেখ করেননি -

এটি যে আমাদের ভিতর একটা অগণিত বিষয় নিয়ে উদযাপন করেছি ,  আপনি এবং আমি -

টারকোভস্কি, টলকিয়েন, সরিষার সসে মিঠাজলের মাছ,

নৌকা চালানো, চর্মসার ডুবানো, বৃষ্টি,

একই থেরাপিস্ট, গ্রিমক্র্যাক হোটেলগুলিতে একই সস্তা কক্ষ -


একজন মৃত ব্যক্তির অতৃপ্ত, এইরকম অপ্রত্যাশিত সদস্যকে

আমাদের এখন ভুলে যাওয়া উচিত না 

এখন আপনি তাকে শশরীরে আদর করতে চান, সম্ভবত,

আপনি যখন এটি পড়বেন, আপনার ঘরে একা

আপনার ল্যাপটপের স্ক্রিনে, ঘরের লাইটগুলি স্যুইচ অফ করে দেওয়া হয়েছে,

স্তনগুলি আমি যা কখনই ভাগাভাগি করার স্তরে আনতে পারিনি -

যদিও আমি চেষ্টা করেছি, বিশ্বাস করুন -

সম্প্রতি মৃতের সঙ্গে ।


--------------------

মুদ্রাপিঠ


( দীপঙ্কর খিওয়ানির জন্য )



যেহেতু, আপনি দেখতে পাবেন না এক্ষুনি যে পংক্তিটি আমি  লিখতে চলেছি:

যে মুহূর্তে আমার মোবাইলে  ভেসে উঠেছে একটি ছবি -

একটি মুখের একপাশে

গ্রেট কনস্টানটাইন এর যুগের একটি মুদ্রার উপর;

পুষ্পসজ্জিত একটি মস্তক আর একটি অশুভ চাহনি

একজন মানুষের ছবি যাকে - অবশ্যই -

জীবিত কেউই সম্ভবত দেখতে পেত না।


মাঝিমল্লারদের জন্য একটি মুদ্রা, আনন্দ? - আমি এখন ধারেকাছেও  কোথাও নেই ...


হুম ... প্রত্যাশা যেমন প্রত্যাশা! দোস্ত, আমি আন্দাজ করতে পারি আপনার পরিভাষা, বন্ধু,

আপানার শৈশবের ভালোলাগা হেলেনীয় প্রেম - না আমি, আমি বারংবার মনে করিয়ে দিতে চাই,

এই কথাটি আপনি বলছেন না ,

আমিই বলে চলেছি নিজের ভাবনার কথা 

যা হয়তো আপনি কোনদিন বলে থাকতে পারেন ।


আমি আপনাকে এই মুদ্রাটি দেখাতে চাই,

এই মুদ্রিত চেহারার প্রতিচ্ছবি,

যদিও এটি অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে - যদি আমি পারতাম - 

দেখাতাম আপনি এখন যেখানে থাকেন 

আপনি হয়তো বা এইটা পছন্দ করতেন ... 


আপনি, বলেছিলেন যে আমি আপনাকে কখনও দেখতে পাইনি,

কারণ দেখার মতো করে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকিনি;

কারণ প্রতিবার আপনার চোখ কিছু বলার চেষ্টা করছিল

আপনার ঠোঁট থেমে যাচ্ছিলো ।  আমি দেখছিলাম পাশে বসে ।

আমি আপনাকে জানতে চাই:

কারণ আপনি কোনদিনই এই সমস্ত দৃশ্য দেখতে পাবেন না 

সেই কারণে আমি আজ এই কয়েকটি পংক্তি লিখে রেখে গেলুম । 



-------------------------------------



সুনামী



বিশ্বাস করুন,

আমি একথা বলতে চাইনি।

আমি বিশ্বাস করি, বিধি ও পরমেশ্বর যদি চান   

আমার সঙ্গে দেখা হয়ে যেতে পারে সমুদ্রের

যেখানে আমার একদিন পৌঁছানোর কথা ছিল ।

যতই সমুদ্রতট অভিমুখে হেঁটে যাই অথবা যাবো বলে অলস বসে থাকি   

কোনটাই আমার সমুদ্র দেখা থেকে আটকাতে পারবে না 


আমি বরং ভয়ে ভয়ে শুরু করি,

অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে তার তরঙ্গে ফেনাময় তান্ডব নৃত্য দেখে,

যেদিকে তাকাই, কোন কুল কিনারা নেই 

মনে হয় সমস্ত সমুদ্র তরঙ্গ একস্থানে মিলিত হয়েছে 

এবং আমি তার ত্বকের নিঃশ্বাস নিতে পারা ছাড়া কিছুই স্বপ্ন দেখিনি 

কোনদিন ভাবিনি সমুদ্র আমাকে আলাদা কোন দূরদৃষ্টি দেবে

অন্ততঃ আমাকে তার করাল কবল থেকে তুলে 

আমার সন্তান সহ আমাকে আছড়ে ফেলবে জংলামাটিতে

আমার ঘরবাড়ি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ডুবে যাবে জলের তলায়

না, আমি ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারছি না

এই সব ভেঙ্গেচুরে যাওয়া সমুদ্রতট,

চূর্ণবিচূর্ণ ধ্বংসস্তূপগুলির অবশেষে আমি নিজেকে দেখতে পাই

অথবা আমার অন্তিমযাত্রা, অন্ততঃ   

আমি ভাবি, একটা সুযোগ আমার কাছে ছিলো

একটা সার্থক জীবনযাত্রার

একটা এমন কিছু যা সমুদ্র থেকে পৃথক,

আর আমি রয়ে গেলাম প্রতাত্মার মতো 

যারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো তাদের হয়ে কিছু বলবার জন্য 

যারা সমুদ্রতটে পুঁতে রাখা সেই ভয়াবহ আবহকে ভুলে যেতে চেয়েছিলো

তবুও এখন আমাকে শোনো,

সেই সব উপকূলের সন্তানসম্ভবা মহিলারা, মৃতমানুষের উত্তরসুরীগ্ণ

সেই সব শিশুদের আমি ছিনিয়ে আপনাদের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলাম

সেই সব শষ্যক্ষেত্র আমি ধুলিস্যাত করেছি, পালিত পশুপাখি আমি খুন করেছি

আমাকে শুনুন এবং দেখুন আমি কতটা নম্রভাবে কথা বলছি:

গর্জন নেই । কোন হুমকার নেই  ।

কোনও উচ্চ চিৎকার নেই, চোখে নেই কোনও অধীর অশ্রুধারা,

নেই কোন অকস্মআত ঝঞ্ঝার ও ফেনাময় সুনামীর আভাস ;


আর নেই সেই আচমকা ফুলে ওঠা জলোচ্ছাস, কুটিল চন্দ্রমালার অলংকার 

যা আমাকে সংক্ষেপে শিখিয়েছে নিজের উচ্চারণ 

সমুদ্রযাপন থেকে অনন্যকিছু যা আমায় জ্বারিত করেছে

সেইসব ছেড়ে যাওয়া প্রিয়তম বন্ধুগ্ণ, নিমজ্জিতদের প্রেমিকেরা

তবুও আমাকে শুনুন যখন আমি বলছি, সত্যি এই ব্যাপারে আমার কোন ইচ্ছাই ছিলো না । 



ত্রয়ী



সুতরাং, এখন আপনি আমাকে সাত সাগর তের নদী থেকে কল করুন আমাকে মনে করিয়ে দিতে

যে আমার প্রয়াত বন্ধুটির জন্য শোক কেবল আমার একার জন্য নয়,

তবে আপনার -

যদিও পারস্পারিক সম্পর্কগুলি আপনাদের মধ্যে তেমন সুমধুর নেই 

এবং আপনারা দু'জন বিশ বছরেও কথা বলেননি।

আমি বুঝতে পেরেছি: দুঃখ প্রকাশের জন্য আপনি হারানো অধিকার পুনরায় দাবি করতে চান,

এবং আমাকে বলতে চান - যদিও অবশ্যই আপনি এটি উল্লেখ করেননি -

এটি যে আমাদের ভিতর একটা অগণিত বিষয় নিয়ে কথা বলেছি,  উদযাপন করেছি ,  আপনি এবং আমি -

টারকোভস্কি, টলকিয়েন, সরিষার সসে মিঠাজলের মাছ,

নৌকা চালানো, চর্মসার ডুবানো, বৃষ্টি,

একই থেরাপিস্ট, গ্রিমক্র্যাক হোটেলগুলিতে একই সস্তা কক্ষ -


একজন মৃত ব্যক্তির অতৃপ্ত, এইরকম অপ্রত্যাশিত সদস্যকে

আমাদের এখন ভুলে যাওয়া উচিত না 

এখন আপনি তাকে শশরীরে আদর করতে চান, সম্ভবত,

আপনি যখন এটি পড়বেন, আপনার ঘরে একা

আপনার ল্যাপটপের স্ক্রিনে, ঘরের লাইটগুলি স্যুইচ অফ করে দেওয়া হয়েছে,

স্তনগুলি আমি যা কখনই দেওয়ানেওয়ার স্তরে আনতে পারিনি -

যদিও আমি চেষ্টা করেছি, বিশ্বাস করুন -

সম্প্রতি মৃতের সঙ্গে ।


গোল

সুমন্ত গোলে খেলে । গোলে দাঁড়িয়ে সে সমস্ত মাঠ দেখে আর ভাবে মাঝমাঠ থকে সবুজের ওপারে সবুজের স্তর পড়েছে । মাঠেই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে শরতের আসমান । বিকেলের গ্যালারি ফুটে উঠেছে এগারো লক্ষ কুসুমে । এই মাত্রছুটে গেল রাইট ব্যাক চোদ্দ নাম্বার, মাঝমাঠে যাচ্ছেতাই ল্যাং খেলো ছাপ্পান্ন । যেখানে,  দল পিছিয়ে রয়েছে ০-২ গোলে ।  সুমন্তর মনে হয়, এই দুরন্ত গতির মাঠ তাকে খেলোয়াড় থেকে বেশী ভাবুক বানিয়েছে । গ্যালারী কখনো স্তিমিত, কখনো উচ্ছাসে ভরে ওঠে । সুমন্ত দেখেছে, পৃথিবীর সব খেলোয়াড় মাঠে নামেন না । যদিও তারা খেলারই অংশ । হ্যান করেগা, ত্যান করেগা , মুখেই তারা গোল মারেন, মুখেই গোল বাঁচান  । বলের গতিপ্রকৃতির আর স্কোরবোর্ডের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভিমুখ পালটে যায় ।  ফুটবলটা তেরছা ভেসে এলো । তীর বেগে ছুটে আসছে বিপক্ষ লেফট উইঙ্গার, সুমন্ত দেখে তাদের হাফ ব্যাক পিছিয়ে , কাছাকাছি  রাইট ব্যাক এবসেন্ট ।  মাঝমাঠ থেকে ট্রলের মতো নেমে আসছে ঢল ।  সুমন্ত আন্দাজ করেন -  গোল আর গোলপোস্টের মাচঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে একমাত্র দক্ষতা । ফুটবল একটি মেথড,  বিপক্ষ স্ট্রাইকার একটি ভ্যারিয়েবল আর মাঠ একটি  ধ্রুবক মাত্র ।  এই মুহূর্তে ডি থেকে তিন ফুট দূরে ডজ মেরে দাঁড়িয়ে পড়েছে রাইট উইং । ফুটবলের কাছে গোল দল-নির্বিশেষে  শুধুমাত্র একটা গন্তব্য । আর বৃহত্তর গ্যালারী দেখতে চায় তার চরম অরগ্যাজম ।  সুমন্ত গোলে খেলে ।  গোলপোস্টই তার অফিসিয়াল স্ট্যান্ড । তার একান্ত বিশ্বাস ।  নির্ধারিত অবস্থানে সে মেপে নেয় নিজের জাতি, ভাষা, সম্প্রদায় । ডজে ছিটকে গেলো হাফ ব্যাক উনিশ নাম্বার, রাইট ব্যাক চোদ্দ নাম্বারকে বায়ে কাটিয়ে বিপক্ষ শিবির দুরন্ত গিতিতে ধেয়ে আসছে গোলপোস্টের দিকে ।  সুমন্ত বুঝতে পারে - তাঁর দল পিছিয়ে আছে । মাঝমাঠ দেখা যায় না  । যেহেতু  সে স্ট্রাইকার নয়, তাই বাই ডিফল্ট সে গোল করতে পারেনা বরং তার রোল হলো - দলের গোল আটকানো । দলের এগারোটি ভ্যারিয়েবেলের যে কেউ গোলে খেলতে পারতো । গ্যালারীর এগারো লক্ষের যে কেউ মাঠে নামতে পারতো । দল হেরে যাবে ?  ভাবতেই পেশীতে বাইশটন রক্তচাপ অনুভব করে সুমন্ত । সে দেখতে পাচ্ছে, মাঠে সেই এক মাত্র খেলোয়াড়, গ্যালারী ফেটে পড়ার আগে সে রুখে দিতে চায়  তাদের উচ্চনিনাদ আর খামোখা চিৎকার ।