মহারাজা অগ্রসেন হাসপাতাল
--পীযূষকান্তি বিশ্বাস
ফেলে এলাম চৌরাস্তায় দাঁড়ানো তোমার মূর্তি মহারাজা অগ্রসেন,
তোমার নামের হাসপাতাল বাঁয়ে রেখে
চলে যাচ্ছি এই রাস্তা পার করে, ফিরবো না আর !
যদি ফিরি এই করুময় চন্দ্রালোকে
এই অনন্ত সহজ নিয়ে পালাম ডাবড়ি রোড
প্রিয়তম কুটিরের মতো কোভিড ডাকছে দ্যাখো,
ফিরে যাবার মতো এই ডাক ।
যেহেতু এই ঝাঁ চকচক, বাইরে পিচ্ছিল রাজপথ
হাসপাতালের জানলা দিয়ে দেখা যায়
কার্পেট বিছিয়ে দেওয়া করুণ রাজ্যপাট
এই দ্যাখো, দুরন্ত শবগাড়ি কি অনায়াসে ছুটে গেলো
যমুনাপার নিজাম ঘাট !
যদি ফের দেখা হয়, হে রাজন তোমার
পাথর বেদীর উপর সুউচ্চ আসনে
তোমার আমার মুরতির তেমন পার্থক্য করি না
যেটুকু ভেদাভেদ সে তো শুধুমাত্র অবসর
তুমি লিখতে পেরেছো, আমি লিখিনি
অনন্তের সঙ্গে ঝরে যাওয়া সামান্য পালক
আর কিছু স্মৃতি নেই,
আর কিছু লিখিত নেই
যা কিছু গ্রন্থনা এই চন্দ্রালোক অনিমেষ
নজফগড় নামে উজাগরি চাঁদে
এ্যাম্বুলেন্সের এই ইয়েলিং সাইরেনে
ভাসিয়ে দিলাম ।
যদি কিছু ফেরার কথা থাকে,
রুবারু রোশনি বলে ডাক দিলেই
দেওয়া যায় ঝাঁপ
দিকবিদিক যেদিকে খুশী পাড়ি দেওয়া যায়
যেদিকে একে বেঁকে চলে গেছে অন্তিম মঙ্গলাপুরী ;
চলে যাওয়া ,
মানে তো পারিষদ নিয়ে নেমে যাওয়া সাম্রাজ্য ,
ঘাসের উপর থেকে যখন সবুজ সরে গেছে
মধুময় যৌবন নিয়ে যেমন গৃহ ডাকে
গর্দনের উপর লটকে থাকা তলোয়ার
রাস্তায় কখন ফের
লাল মাটি থেকে ঝড়ে গর্জে ওঠে তুফান !
রাস্তার দুদিকেই রাস্তা, হে মহারাজ অগ্রসেন,
আপনি আমায় কোন রাস্তায় ডেকেছেন ?
এই অবসরে কোভিড ব্যতীত আর কোন রাস্তা নেই ?
রাস্তার দুদিকেই রাস্তা
এক কহে গৃহ কই
এক কহে ঘুম কই
এই অনন্ত অন্ধকার আর অগুন্তি বিন্দুসমূহ
ভেন্টিলেটরের পর্দায় ফুটে ওঠা সাইন ওয়েভ
নিভে যেতে চায় সরলরেখায় ।
আর যদি কিছু স্মৃতি কিছু লিখে ফেলি
তাকে আর কেন আবৃত্তি করা
আকাশচুম্বন দিয়ে দ্বারকাবাসীর সুউচ্চ ফ্ল্যাট,
পান্থশালায় স্থিত আমার নিশ্চুপ ঘুমঘর
দিল্লির স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ গচ্ছিত রেখেছি
মঙ্গারের মগ্নতায় ।
আর যদি ফিরে আসি সেই গন্তব্য নিয়ে
যদি হেঁটে পাড়ি দিতে পারি আউটার রিং রোড
হে রাজন আপাতত
তোমার হতে সঁপে গেলাম এন সি আর
যে দিল্লিকে আমি গন্তব্য বলেছি
কালের লহমায় তা গুঁড়িয়ে ফেলে দিও,
অথবা মিশিয়ে দিও লাল ল্যাটেরাইট বদরপুরে
তোমার আমার মুখ একসাথে উদ্ভাসিত হবে
দ্যাখা হবে ফের কোন এক সঙমর্মরের
শ্বেত চাতালে ।।
No comments:
Post a Comment