সুমন্ত গোলে খেলে । গোলে দাঁড়িয়ে সে সমস্ত মাঠ দেখে আর ভাবে মাঝমাঠ থকে সবুজের ওপারে সবুজের স্তর পড়েছে । মাঠেই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে শরতের আসমান । বিকেলের গ্যালারি ফুটে উঠেছে এগারো লক্ষ কুসুমে । এই মাত্রছুটে গেল রাইট ব্যাক চোদ্দ নাম্বার, মাঝমাঠে যাচ্ছেতাই ল্যাং খেলো ছাপ্পান্ন । যেখানে, দল পিছিয়ে রয়েছে ০-২ গোলে । সুমন্তর মনে হয়, এই দুরন্ত গতির মাঠ তাকে খেলোয়াড় থেকে বেশী ভাবুক বানিয়েছে । গ্যালারী কখনো স্তিমিত, কখনো উচ্ছাসে ভরে ওঠে । সুমন্ত দেখেছে, পৃথিবীর সব খেলোয়াড় মাঠে নামেন না । যদিও তারা খেলারই অংশ । হ্যান করেগা, ত্যান করেগা , মুখেই তারা গোল মারেন, মুখেই গোল বাঁচান । বলের গতিপ্রকৃতির আর স্কোরবোর্ডের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভিমুখ পালটে যায় । ফুটবলটা তেরছা ভেসে এলো । তীর বেগে ছুটে আসছে বিপক্ষ লেফট উইঙ্গার, সুমন্ত দেখে তাদের হাফ ব্যাক পিছিয়ে , কাছাকাছি রাইট ব্যাক এবসেন্ট । মাঝমাঠ থেকে ট্রলের মতো নেমে আসছে ঢল । সুমন্ত আন্দাজ করেন - গোল আর গোলপোস্টের মাচঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে একমাত্র দক্ষতা । ফুটবল একটি মেথড, বিপক্ষ স্ট্রাইকার একটি ভ্যারিয়েবল আর মাঠ একটি ধ্রুবক মাত্র । এই মুহূর্তে ডি থেকে তিন ফুট দূরে ডজ মেরে দাঁড়িয়ে পড়েছে রাইট উইং । ফুটবলের কাছে গোল দল-নির্বিশেষে শুধুমাত্র একটা গন্তব্য । আর বৃহত্তর গ্যালারী দেখতে চায় তার চরম অরগ্যাজম । সুমন্ত গোলে খেলে । গোলপোস্টই তার অফিসিয়াল স্ট্যান্ড । তার একান্ত বিশ্বাস । নির্ধারিত অবস্থানে সে মেপে নেয় নিজের জাতি, ভাষা, সম্প্রদায় । ডজে ছিটকে গেলো হাফ ব্যাক উনিশ নাম্বার, রাইট ব্যাক চোদ্দ নাম্বারকে বায়ে কাটিয়ে বিপক্ষ শিবির দুরন্ত গিতিতে ধেয়ে আসছে গোলপোস্টের দিকে । সুমন্ত বুঝতে পারে - তাঁর দল পিছিয়ে আছে । মাঝমাঠ দেখা যায় না । যেহেতু সে স্ট্রাইকার নয়, তাই বাই ডিফল্ট সে গোল করতে পারেনা বরং তার রোল হলো - দলের গোল আটকানো । দলের এগারোটি ভ্যারিয়েবেলের যে কেউ গোলে খেলতে পারতো । গ্যালারীর এগারো লক্ষের যে কেউ মাঠে নামতে পারতো । দল হেরে যাবে ? ভাবতেই পেশীতে বাইশটন রক্তচাপ অনুভব করে সুমন্ত । সে দেখতে পাচ্ছে, মাঠে সেই এক মাত্র খেলোয়াড়, গ্যালারী ফেটে পড়ার আগে সে রুখে দিতে চায় তাদের উচ্চনিনাদ আর খামোখা চিৎকার ।
No comments:
Post a Comment