Monday, August 21, 2017

প্রিন্স অব পার্সিয়া


প্রিন্স অব পার্সিয়া -১

জানালায় কোন দৃশ্য নেই,
দৃশ্য পার করে যাবার
            অক্ষমতাকে
               অতিক্রম করে রাণীকে বাঁচিয়ে আনার
                          অকপট আকাঙ্ক্ষা
             অন্দরমহল থেকে চুম্বনের উড়ন্ত হাতছানি
উপর-নীচ
         পাশাপাশি
তলোয়ারের উজ্বল ধার
আঙ্গুলে-মস্তিষ্কে ঘমাসান

রাণীর বুকের মাংসল ছোঁয়ার ভিতর
যেখানে জিভ রাখতে চেয়ে
          জীবন পণ রেখে
              মারণফাঁদ  থেকে
               ছিনিয়ে আনতে হয়        চুমু
বারবার প্রতিবার
দর-দালান থেকে ঝুর ঝুর
খসে পড়ে ইট



প্রিন্স অব পার্সিয়া -২

বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজা
               বুলন্দ
                     হোসলার কারুকাঠ
ফাঁক হয়ে যাওয়া পরীখা
প্রতিটা লাফের সাথে মরণবাজী
                               আরো এক লেভেল
প্রত্যেকটি ধাপ থেকে সরে যায় লক্ষ্য
ক্লান্ত হয়ে যাবার আগেই এসে পড়ে আর একটি গন্তব্য
গন্তব্য মানে মৃত্যু
মৃত্যুকেই একমাত্র অতিক্রম করতে চাওয়া
পারস্য রাণীর ঠোটে এই চুম্বনের স্বাদ
দর দালানের ভুলভালাইয়াতে পিছলে যাওয়া
কন্ট্রোলে,              স্পেসে
এক একটি দুঃসাহস  
             এক একটা রাজকুমার ...  


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৩

দৃশ্যত যা নিজেকে পার করে যাবার
এই প্রিয়তম কক্ষ ছেড়ে,
অপার সংসার এই জানালার কাছে বসে কি দেখতে চাওয়া ?
জানালার নিজেরতো কোন দৃশ্য নেই
উঁচু ব্যালকনি,
উঁচু এই মহল
আর ক্ষয়ে যাওয়া পাথরে এই বাঁধা সিঁড়িতে
উদ্দাম যৌবন নিয়ে স্খলিত রসায়ন
কেবলি পা পিছলে যায়

দেওয়াল জুড়ে একটাও ছিদ্র নেই,
নেই কোন আটকানো পেরেক
কার্যত এক একটা দেওয়ালকে পিছনে ফেলে
শিংহাসনমুখী, তাজ বরাবর দৌড়

দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে যা কিছু কাল্পনিক ,
ভারচুয়াল
রাণী, রাণী
তোমার নাভিতে যে কোন মুহুর্তে ডুবে যেতে পারে আঙুল
এই বালিশ ভেদ করে, বিছানাপত্র,
শয়নকক্ষ,
ফায়ার প্লেস


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৪

যা কিছু ভাঙ্গার, অক্ষয় থাকে না
বুলডোজার আসার আগে বা পরে

এই অক্ষর, বর্ণমালা, ছন্দ
নদীমাঠ জুড়ে অতলান্ত জল ঢুকছে
তাক করে রাখা আছে ক্যামেরা


নিউজফিডে কোন জানালা নেই
নেই কোন সাতরাঙ্গা বুদবুদ
আর নীচতলা থেকে জলোচ্ছাস উথলে উঠেছে
দোতলায় পা ডুবে যায়
অধরা যা কিছু ছিলো চিলেকোঠার
অধরে যে বাষ্প ধরা আছে
জলীয়

প্রত্যেকটি লম্ফনের আগে
ভেঙ্গে ফেলা দ্বিধা ঢ্যামনামো
জলেডোবা মৃত্যুকে অতিক্রম করতে চেয়ে


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৫

রাণী রাণী
এই ভাঙ্গা আসরে তুমি নেই,
কেউ কবিতা শোনে না
ক্যারোম বোর্ড পড়ে আছে একা

খিলাড়ীরা বোরিক এসিড মেখে ঘরে ফিরে গেছে
ভাঙ্গা আসর
ভঙ্গুরতর বস্তুদের পিচ্ছিল সহাবস্থান

রাণীর কান থেকে খসে পড়া কোন কান বালিয়া
কোমরবন্ধনী থেকে ঝরে পড়া কোন স্বর্ণ আসরফি

দ্বারদেশে কোন সিপাহি নেই
ঠহলদারীর কোন নিয়ন বাতি নেই,
গার্ডপোস্টে সাদাকালো নিয়ে অপেক্ষা করে
প্রাচীন অরণ্য ঠুকরে ফিরে আসা প্রবাদ
আর বিখরে যাওয়া বেতালের খুলি ।


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৬

যা পুড়ে যেতে চায়,
পুড়িয়ে যেতে যায়
নিজস্ব শরীর সমেত , নিজস্ব আকার, শ্রী
কপাটের আড়ালে রাখা কলস সমূহ

সোনা,
আমার সোনা
অঙ্গে সোহাগা মেখে জল আর লবনের প্রতীক্ষা

এর অর্থ যদি প্রবেশাধিকার হয়,
প্রতিযোগীতাহীন ডুয়েল
এই বীরত্ব থেকে
এই কবিত্ব থেকে
চুমুর উপাখ্যান ভষ্ম হয়ে যাবে
প্রতীয়মান দৃশ্য থেকে মুহূর্তে পিছলে যাবে যুবরাজ
যেখানে নিশব্দে পুড়ে যেতে চায় আগুন
আত্মহত্যার প্রস্তুতিপর্বে যেখানে আবদ্ধ পাত্রের মধ্যে
ওত পেতে থাকে তেজস্বী অম্লজান ।


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৭

আবদ্ধ থাকার ভিতর যে নিঃশব্দ থাকে, 
থাকে বিপ্লবের প্রস্তুতি
তুমি তাকে লোহার শিকল দিয়ে সংজ্ঞায়িত করো
আর মুক্তি বলে যা কিছু তুমি স্বীকারোক্তি দাও
তুমি জানো প্রহরী
এই কারাগারের প্রত্যেকটি দেওয়ালে
প্রতিটা একক ইট
তাদের কানে কানে তুমি
গর্ভবতী ঝিনুকের কথা এমন ভাবে বলো যে 
তাদের কান গরম হয়ে ওঠে
তাদের এমন ভাবে উপস্থাপন করো
এই শৃংখল, এই বেড়ী, গারদ, তালা যে
নিকষ কালো অন্ধকার আর দেওয়াল
একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়ায়

মুক্তার বীজ নিয়ে 
এক পুর্ণাঙ্গ ঘমাসানের জন্য তৈয়ার গোকুল ।


প্রিন্স অব পার্সিয়া -৮

কারো ছায়া এগিয়ে আসে
এই নশ্বর শরীরের দিকে

ত্রিমাত্রিক-যা কিছুটা সম আয়তন,
কিছুটা নিজের অবয়ব, কিছুটা গ্লসি ব্লারড
অথচ অস্ত্রশস্ত্রের দিকে ধ্যান দিলে মনে হয়
ভিন্ন শতাব্দীর সামুরাই ।

হাতে অসি তুলি, সে তুলে নেয় আগ্নেয়অস্ত্র
ইনফ্রা-রেড, লেজার
কেউ ভয় পায় না
একে অন্যের দিকে অস্ত্র হাতে উদ্যত


হিলিং কম হয়ে আসে
বিপ, বিপ
দ্রুত শেষ হয়ে আসছে হেলথ ইন্ডেক্স

উন্মুক্ত দরজা বন্ধ হয়ে যায়
ছায়াকে মৃত ঘোষণা করে
খুঁজতে থাকি আর একটা দরজা ।

























No comments:

Post a Comment